একদা এক পানশালাতে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
দেব সাহিত্য কুটীর প্রাঃ লিমিটেড
প্রথম প্রকাশ : বইমেলা, জানুয়ারি ২০২১, মাঘ ১৪২৭
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
.
উৎসর্গ
বাংলা সাহিত্য কাঁটাতারের বাধা মানে না৷ তোমার লেখনী এগিয়ে চলুক৷
আমার পাঠক বন্ধু, ঢাকা বাংলাদেশ নিবাসী
তৌশিক খান তন্ময়-কে৷
.
ভূমিকা
পানশালা, শব্দটা কানে গেলেই মধ্যবিত্ত বাঙালিরা কেউ বা নাক সিঁটকোন, আবার কেউ বা অবগাহন করেন সোনালি স্মৃতিতে৷ কলকাতার পানশালাগুলির সঙ্গে গায়ে-গতরে খেটে খাওয়া বাঙালি, কলমপেষা কেরানি বাঙালি, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বাঙালি, এককথায় বলতে গেলে সুরাপ্রেমী বাঙালিদের সম্পর্ক তিনশো বছরেরও বেশি৷ ব্রিটিশ আমলের পাঞ্চ হাউস থেকে আজকের কলকাতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পানশালা, যতই কেউ এ শব্দ নিয়ে কটাক্ষ করুন না কেন, কলকাতার ইতিহাস, বিশেষত বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাস রচনা কখনোই পানশালাকে বাদ দিয়ে রচনা করা সম্ভব নয়৷ যাঁরা পানশালাকে নরকের ওয়েটিং রুম বলে মনে করেন তাঁরাও এর স্থানমাহাত্ম্য অস্বীকার করতে পারেন না৷ এই মহানগরীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বহু জানা-অজানা পানশালা৷ তাদের কারো বুকে জেগে আছে এ নগরীর ইতিহাস, মদিরাপ্রেমী সৃষ্টিশীল বাঙালির পানপাত্রের সুরেলা শব্দ৷ কে নেই সেই তালিকাতে! চলচ্চিত্র পরিচালক, নাট্যকার, অভিনেতা থেকে সাহিত্যিক, শিল্পী, চিত্রকর, যাঁরা ঋদ্ধ করেছেন বাঙালির মনন, সংস্কৃতিকে৷ কোনো পানশালা আবার আজকের কর্পোরেট বাঙালির প্রতিনিধি৷
চার দেওয়ালের মধ্যে এ যেন এক রহস্যময় পৃথিবী৷ শুধু অন্ধকার নয়, তার ভিতর থেকে উৎসারিত হয় আলোও৷ সেই রহস্যময়তাকে নিজের কলমে তুলে ধরার জন্যই কলকাতার এক পানশালাতে গিয়ে উপস্থিত হয় এ কাহিনির নায়ক, তরুণ লেখক চন্দন৷ উপন্যাস লেখার জন্য নিছক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সে বিদিশা নামের পানশালাতে পা রাখলেও ধীরে ধীরে সে যেন একাত্ম হয়ে উঠতে থাকে এই মধুশালার আলো-আঁধারের সঙ্গে৷ কত রকমের বিচিত্র মানুষ, বিচিত্র কাহিনির আঁতুড়ঘর এই পানশালা! একই সঙ্গে চন্দন নানা মানুষের থেকে আহরণ করতে থাকে কলকাতার সুরা প্রেমের, পানশালার ইতিহাস৷ আর এ কাজ করতে করতে সে নিজেও একসময় জড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত ঘটনার সঙ্গে৷ যে ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বর্তমান সময়কালের সমাজ ব্যবস্থা, অপরাধ এবং রাজনীতি৷ অন্ধকার কোথায় বেশি? পানশালার ভিতরে নাকি বাইরে? শেষ পর্যন্ত কি চন্দন অন্ধকারের ভিতর কোনো আলোর সন্ধান পায়? নাকি পানশালার অন্ধকার রহস্যময়তা গ্রাস করে নেয় তাকে? কলকাতার পানশালা নিয়ে, তার ব্যথা-বেদনা, আলো-আঁধার, রোমাঞ্চ উঠে এসেছে—একদা এক পানশালাতে৷
এবার আসি উপন্যাস নির্মাণ প্রসঙ্গে৷ এ উপন্যাসের কাঠামো লেখকের কল্পনা- প্রসূত হলেও কোথাও কোথাও প্রতিফলিত হয়েছে লেখক বা তাঁর সুরাপ্রেমী বন্ধুদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা৷ এই উপন্যাস রচনা করার জন্য, বিশেষত পুরোনো কলকাতার সুরাপ্রেমী ও পানশালার ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য লেখক সাহায্য গ্রহণ করেছেন কিছু বই, সংবাদপত্রর কাটিং এমনকী অন্তর্জাল থেকেও৷ এ বিষয়ে আমার অগ্রজ সুরাপ্রেমী কথাসাহিত্যিক, কবি দীপ মুখোপাধ্যায়ের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন৷ কলকাতার পানশালার ইতিহাস, মদ্যপ্রেম বিষয়ক তাঁর লেখা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তিনি আমাকে সমৃদ্ধ করেছেন৷ কৃতজ্ঞতা জানাই দীপদাকে৷ কৃতজ্ঞতা জানাই দেব সাহিত্য কুটীরের অন্যতম কর্ণধার শ্রীমতী রূপা মজুমদারকে৷ তাঁর মুখে শোনা একটি ঐতিহাসিক পারিবারিক কাহিনি আমি আমার উপন্যাসে লিপিবদ্ধ করেছি৷
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
১লা জানুয়ারি, ২০২১
Good